পোস্টগুলি

ডায়েরী থেকে (১)

 https://photos.google.com/photo/AF1QipM9OPckv40Qti24v0qeW2o4dsJ9_ax5llo8Gv3O "গানের লীলার সেই কিনারে যোগ দিতে কি সবাই পারে/ বিশ্বহৃদয় পারাবারে রাগরাগিণীর জাল ফেলাতে __ / তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে।"  __ বিশ্বকবির ভাষায় বন্দনা করি এশিয়া মহাদেশের বিশ্ববরেণ্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত সাধকের।জীবনের অতি সাধারণ সুর ও কথাকে যিনি অবলীলাক্রমে গানের ভেলায় ভাসিয়েছেন ষাট বছরের অধিক কাল যাবৎ __ বাংলা তথা ভারত,এমন-কি বহির্দেশীয় গ্রাম ও নগরে হৃদয় সাম্রাজ্য বিস্তারকারী এই প্রতিভা__ তিনি আর কেউ নন, কলকাতার প্রবোধ চন্দ্র দে,ডাক নাম ' মান্না ', এই মুহূর্তে তালতলা দর্পণের মূর্তিমান গীত - বিম্ব।https://photos.google.com/photo/AF1QipOVJHfp3ZjvoOJ0NW14zglzeooTxkuSrNf_BapV     ' হৃদয়ের গান শিখে তো গায় গো সবাই,/ ক'জনা হৃদয় দিয়ে গাইতে জানে ' _ তাঁর কণ্ঠেরই প্রতিধ্বনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যদি ক্রিকেটের মহারাজ হন তবে মান্না দে সঙ্গীতের অন্যতম অধীশ্বর নন কেন! হিন্দী এবং বাংলা ছাড়াও     ভোজপুরী, মাগধী, মৈথিলী, পঞ্জাবী, অসমীয়া, উড়িয়া, কোঙ্কনি, সিন্ধি, গুজরাটি, মারাঠা, কা...

নজরুল জয়ন্তী

শিরোনামঃ শ্রদ্ধাঞ্জলি " ওই শুনি যেন চরণধ্বনি রে..."         __ বিশ্বকবির ভাষায় শ্রদ্ধাপূর্ণ আহ্বান জানাই দুখুমিঞার বীরত্বে ভরা প্রতিভাময় বঙ্গ প্রেমী সত্ত্বাকে। তিনিই আমাদের কাজী নজরুল।১৮৯৯ সালের ২৪ মে তারিখে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। অভাব - অনটন ছিল তাঁর আশৈশবের নিত্য সঙ্গী।নিজের অবস্থাকে সম্মান জ্ঞাপনের মহত্ব ও দর্শন তাঁর লেখায় চিত্রিত __ ' হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান ...'।শৈশব হতেই ছিলেন লেটো দলের বাদক।রুটির দোকানের শ্রমিকরূপে পেরিয়ে গেছে শৈশব আর কৈশোরের নিষ্পাপ বয়সগুলি।পরবর্তীতে কাজ করেছেন সৈনিক হিসেবে।সাংবাদিকতাও করেছেন দুখু মিঞা।কাজ করেছেন এইচ এম ভি ও কলকাতা বেতারে।ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে পথে নেমেছেন।পাশাপাশি সাহিত্য সাধনা আর গীতি সৃষ্টি তো ছিলই।শাসকের কো পানল অথবা কারারুদ্ধতা নত করতে পারেনি নজরুলের উচ্চ শির। বাংলা সাহিত্যে ' বিদ্রোহী কবি ' হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার,সাংবাদিক,চলচ্চিত্রকার...

শুধু দুটি বর্ষবরণ

(১) শিরোনাম: বর্ষ মহরৎ @১৪৩০. কম  ' চৈতে গিমা তিতা,বৈশাখে নালিতা মিঠা,জৈষ্ঠে অমৃত ফল আষাঢ়ে খৈ,শাওনে দৈ।ভাদরে তালের পিঠা, আশ্বিনে শশা মিঠা, কার্তিকে        খৈলসার ঝোল,অগ্রাণে ওল। পৌষে       কাঞ্চি,         মাঘে তেল,ফাল্গুনে পাকা বেল।'                                           _শ্রদ্ধেয়া খনাদেবীর স্বাস্হ্যকর  বচনটি আপামর বাঙালির প্রাচীন বাঙালিয়ানাকে পুষ্ট করে_ শিহরিত করে আজও। যৎসামান্য শিক্ষাপ্রাপ্ত অথবা গ্রামীণ রমণীর মুখে মুখে অতি চর্চিত এই বাণী সহ প্রবেশ করি নববর্ষের বাসরে।  এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিতব্য বাংলা সাহিত্য চর্চায় মনের আনাচে কানাচে উঁকি মারে বাংলা বর্ষবিদায়, বর্ষবরণ ও হালখাতারূপ ত্রি ধারা।বর্ষবিদায় এবং বর্ষবরণ যেন একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ।একটি বর্ষবিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষিত হয় পরবর্তী নতুন বর্ষের বরণবার্তা।প্রাসঙ্গিক এই এপ্রিলেরই ১৫ তারিখে ১ লা বৈশাখ_১৪৩০ বঙ্গাব্দের সূচনা। বাংলা পঞ্জ...

দোলের বঙ্গ-বিশ্ব দর্শন

 দোল কি কেবল রঙের খেলা, মিলন মেলা নয়! আবাল - বৃদ্ধ - বনিতা এদিন মেতে ওঠে লাল,নীল,হলুদ,সবুজের আনন্দে।আবীর ও তরল রঙ একে অপরের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। মন্দকে পিছনে রেখে শুভ আর কল্যাণকে সাথী করে এগিয়ে যেতে চায় বাঙালি ও অন্যান্য হিন্দুরা।কলকাতায় অবশ্য খ্রিস্টান ও মুসলিম ভাই,বোনদেরকেও সামিল হতে দেখা যায় এই উৎসবের উদযাপনে।রাধাকৃষ্ণের রূপকে নিজেদের জীবনের আনন্দকে আলিঙ্গন করে সকল বয়সের মানুষ।কোনও এক সময়ে ধর্মের মোড়কে মানুষের বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করে পরবর্তীতে ক্রমে বিশ্বমিলন যজ্ঞের দর্শনে ঠাঁই মিলেছে এই দেহ,মন রাঙানো উৎসবের। https://youtu.be/_n5I-qa8SiE?si=2g7xDAt7h6QgXxeV https://youtu.be/21kU5quVODE?si=tkn1u_DBSF1-n1cC ভক্ত প্রহ্লাদকে পূর্ব দিবসে তার পিসি হোলিকার কোলে বসে মৃত্যুতে ঢলে পড়ার হাত হতে রক্ষা করেন ভগবান।পরিবর্তে আগের দিন সাঁঝ বেলায় আনন্দের সঙ্গে খলনায়িকা হোলিকাকেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে বঙ্গে চলে ন্যাড়াপোড়া উৎসবের সমারোহ।আসলে নতুন বছর শুরু হওয়ার পূর্বেই পুরাতন কালিমাকে বিদায় দেবার রীতি এটি।নতুন উদ্যমে রঙের খেলায় মাতোয়ারা হয়ে সকলে মিলে একসাথে সুন্দর ও সত্যে ঘেরা আগ...

জাগো সবলা !

 বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পারিবারিক চালিকা শক্তি বিশেষতঃ মেয়েরাই।তবু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহুরে আদব কায়দায় বেড়ে ওঠা অথবা আদিবাসী রমণীর ধমনী পর্যন্ত সমাজের যাবতীয় কলঙ্কিত বিষাক্ত মিথ্যে রসপ্রবাহের অসার প্রয়াস সমাজকে নিম্নাভিমুখী করেছে বারেবার।কিন্তু, কেন এই দ্বিচারিতা! সমাজের উন্নয়ন কামনা করি আমরা।অথচ, ছলে বলে কৌশলে নারীর পরিশ্রমের ছদ্মমূল্যকে গোপনে ঢেকে এগিয়ে চলবার উদ্যোগ চলেছে দিকে দিকে।উপরে উঠে নানান অভিমুখে গতিশীল হতে চায় সমাজ।আর তার সদস্যরা ভুলে বসে থাকেন_ এই সমাজ আসলে একটি পক্ষীর রূপক বৈ নয়। তার একটি ডানা পুরুষ আর অন্যটি নারী! শুধু পুরুষের উন্নয়ন ঘটলে আর  নারীকে বেধে রেখে দিলে সমাজ নামের পাখিটি তার স্বভাবজাত উড্ডয়নে সক্ষম তো হয় না; উপরন্তু পুরুষ নামক ডানাটিকে নিয়ে উড়তে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়,পাখিটির ওই ডানাটি সমাজ পক্ষীর দেহ হতে ছিন্ন হয়ে পাখিটি ( সমাজ ) খোঁড়া হয়ে পড়ে।এই পঙ্গু সমাজের ধ্বংস অনিবার্য!নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবার এই ঔদ্ধত্য শুধু আজ নয়, যুগে যুগে সম্পাদিত ন্যক্কারজনক আচরণ। আজ হয়তো বিশ্বজুড়ে রমরমিয়ে উদযাপিত 114 তম আন্তর্জাতিক নারী...

১৩৮- বর্ষে বাঞ্ছাকল্পদ্রুম

  https://youtu.be/1_LnVUtzfrY?si=7mYSTwIV3_P-8h0V ওম স্থাপকায়চ ধর্মস্য ধর্মস্বরূপিনে।                                      অবতার বরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে  নমহ।। ঠাকুরের ধ্যান,জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তিভাবের পরিপূর্ণতায় বিমুগ্ধ মানসপুত্র স্বামী বিবেকানন্দ প্রণীত গুরুপ্রণামের মন্ত্রে বন্দনা দ্বারা চেতনার আলোয় দর্শীত শ্রীরামকৃষ্ণের বাঞ্ছা কল্পদ্রুম হয়ে ওঠার ১৩৮ বর্ষ (২০২৩) এটি। উৎসব মুখর বঙ্গ ক'দিন  আগেই মাতোয়ারা হয়েছে বড দিনের আনন্দে।ধন্য হয়েছে সাহেবী কেকের পরশে।এই খ্রিস্টান আমেজ অবশ্য আড়াল করেনি বৌদ্ধ, জৈন,শিখ, মুসলিম অথবা হিন্দুর বৈষ্ণব কিম্বা শাক্ত মতাবলম্বী ভক্তের ধর্মীয় মূল্যকে।সত্যি বলতে,কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা যে কোনও ধর্ম অবলম্বিত উৎসবেই যথাসাধ্য মেতে ওঠেন অন্তর হতে।কলকাতার মনন ও মানসিক সাম্যের জোয়ার হয়তো অচিরেই প্লাবিত ও একাকার করতে চলেছে বিশ্বজুড়ে বহুবিধ ধর্মবিশ্বাসকে; যার ভিত্তিভূমি হয়তো বা রচিত হয়ে গিয়েছে বহু পূর্বে শ্রীরামকৃষ্ণের হাত ধরেই...

আ'মরি মায়ের ভাষা! সুপ্রিয়া গঙ্গোপাধ্যায়

ছবি
 https://www.youtube.com/watch?v=Kuxll9iJL3s অ  ' কোন ভাষা মরমে পশি আকুল করি' তোলে প্রাণ ' চরণে 'ছন্দের জাদুকর ' নিঃসন্দেহে আমাদের মাতৃভাষার কথাই বলতে চেয়েছেন! নিজস্ব পরিচিতি,যোগাযোগ,সামাজিক ঐক্য,বিবিধ সরকারি নথিপত্র রক্ষা,শিক্ষা ও বিকাশের জন্য ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।আন্দামানের সেন্টিনেলিস রা এখনও সাংকেতিক ভাষায় তাদের কথাবার্তা সারেন। মূক,বধির, অতিশিশু থেকে শুরু করে মৃত্যুপথযাত্রী শয্যাশায়ী বৃদ্ধ, বৃদ্ধা অথবা আঘাতপ্রাপ্ত যে কোনও বয়সের ব্যক্তি হোক কিম্বা ধ্যান-মগ্ন সাধু __ প্রত্যেকেই তার মনের অনুভূতিকে ব্যক্ত ও বিনিময় করবার তাগিদে ভাষার আশ্রয় নেন।এমনকি নিদ্রামগ্ন ব্যক্তির স্বপ্নেও রয়েছে ভাষার আবেদন! যে কোনও অনুভূতিই হোক না কেন তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে একত্রিত করতে পারা চাই; আর সেটির অভ্যেস শুরু থেকেই হওয়া উচিত।পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্তির পর নতুন কিছু আরোপিত হলে, তা ততখানি হৃদয়গ্রাহ্য কিম্বা মস্তিষ্কে ধারণযোগ্য হয় না, মনস্তত্ত্ব বলে। এতদসত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠীর অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের ফলে তদানীন্তন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রাণের ভাষা বাংলা পেল না রাষ...